ভারত পাচ্ছে ২-৩ কোটি ডলার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আয় শূন্য: সিডব্লুআই প্রধান
- 1
মাছরাঙার ইনস্টাগ্রামে তারকাদের ভুয়া ভিডিও: হ্যাকের দাবি
- 2
সিনেমায় অভিনয়ের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, পরিচালকের নম্বর ব্লক করেন নীতি টেলর
- 3
এআই দিয়ে বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি নিয়ে ক্ষুব্ধ মেহজাবীন
- 4
মাকে নিয়ে অপপ্রচারে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি মৌসুমীপুত্র ফারদিনের
- 5
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল, শেষ ম্যাচেও বড় হার

ভারত পাচ্ছে ২-৩ কোটি ডলার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আয় শূন্য: সিডব্লুআই প্রধান
ভারত পাচ্ছে ২-৩ কোটি ডলার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের আয় শূন্য: সিডব্লুআই প্রধান
মাঠের লড়াইয়ে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম চার ম্যাচ শেষে দুই দলই জিতেছে দুটি করে ম্যাচ। তবে মাঠের এই সমতা আর্থিক ক্ষেত্রে নেই। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডব্লুআই) প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেরিংয়ের দাবি, ভারতে আয়োজিত এই সিরিজ থেকে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) আয় হতে পারে ২ থেকে ৩ কোটি মার্কিন ডলার। বিপরীতে, সিরিজ থেকে সরাসরি কোনো আয় পাবে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট।
‘দ্য স্কুপ’ অনুষ্ঠানে অঞ্জলি দোশির সঙ্গে আলোচনায় ডেরিং বলেন, ভারতে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব থেকে বিপুল অর্থ আয় হতে পারে। কিন্তু সেই আয়ের কোনো অংশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের হাতে আসে না।
তবে ডেরিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি ভারতের পক্ষ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বঞ্চিত করার বিষয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিদ্যমান আর্থিক কাঠামোর ফল।
১৯৯৭ সালের সিদ্ধান্তে বদলে যায় আয়ের হিসাব
দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের আর্থিক ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে ডেরিং ফিরে যান ১৯৯৭ সালে। তাঁর ভাষ্য, সে সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সদস্যদেশগুলো সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া অর্থ বণ্টনের নিয়ম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেয়।
ডেরিং জানান, আগে সফরকারী দলগুলো স্বাগতিক দেশের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা ট্যুর ফি পেত। অনেক ক্ষেত্রে সেই অর্থ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে নিজেদের মাঠে সিরিজ আয়োজন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য আয়ের চেয়েও বেশি ছিল।
কিন্তু নতুন আর্থিক কাঠামো চালুর পর স্বাগতিক দেশগুলো দ্বিপক্ষীয় সিরিজের সম্প্রচারস্বত্ব থেকে পাওয়া আয় নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ পায়। ডেরিংয়ের দাবি, ১০টি সদস্যদেশের মধ্যে ৯টি দেশ এই পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছিল।
তিনি বলেন, সেই সিদ্ধান্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্য বড় ধাক্কা ছিল। কারণ, সফরকারী দল হিসেবে ট্যুর ফি পাওয়া ছিল তাদের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

ভারতের বিশাল বাজার, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের সীমাবদ্ধতা
আয়ের বৈষম্য বোঝাতে ডেরিং ভারতের বিশাল দর্শকবাজারের সঙ্গে ক্যারিবীয় অঞ্চলের তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিপুল জনসংখ্যার ভারতীয় বাজার থেকে সম্প্রচারস্বত্বের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থ আয় করা সম্ভব, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের তুলনামূলক ছোট বাজারে একই পরিমাণ আয় করা কঠিন।
ফলে একই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে অংশ নিলেও স্বাগতিক দেশ ও সফরকারী দলের আর্থিক সুবিধা এক হয় না। ভারতের মতো বড় বাজারে সিরিজ আয়োজনের ফলে সম্প্রচারস্বত্ব ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বোর্ডের পক্ষে নিজেদের অঞ্চলে সমপরিমাণ রাজস্ব আয় করা অনেক কঠিন।
আর্থিক সংকটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট
দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সংকট সামাল দিতে বোর্ড সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানো এবং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ কমিয়ে সাত মাসে আনার বিষয়টিও রয়েছে।
ডেরিংয়ের বক্তব্যে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটের বর্তমান আর্থিক কাঠামো নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য বজায় রাখতে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, ক্রিকেট থেকে অর্জিত আয়ের বণ্টন নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।
ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজে মাঠের লড়াই যতই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক, দুই বোর্ডের আয়ের ব্যবধান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।















