Image

‘কথা রাখেননি জেসুস’, পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পুরো ঘটনা জানালেন রোনালদো

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 53 মিনিট আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
‘কথা রাখেননি জেসুস’, পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পুরো ঘটনা জানালেন রোনালদো

‘কথা রাখেননি জেসুস’, পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পুরো ঘটনা জানালেন রোনালদো

‘কথা রাখেননি জেসুস’, পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার পুরো ঘটনা জানালেন রোনালদো

পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর অবশেষে পুরো ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা দীর্ঘ বিবৃতিতে পর্তুগালের অধিনায়ক নিজের দৃষ্টিতে ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সমর্থক ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং নিজের ভুলের জন্য শাস্তি মেনে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। 

রোনালদোর অভিযোগ, কোচ হোর্হে জেসুস তাঁর সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি দুইবার রাখেননি। আর দ্বিতীয়বারের পর নতুন কোনো প্রতিশ্রুতির অপেক্ষায় না থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে জেসুসের সঙ্গে তাঁদের কথোপকথন নিয়ে রোনালদোর দেওয়া বর্ণনার কিছু বিষয় কোচ অস্বীকার করেছেন। 

শুরুটা হয়েছিল ভিন্ন পরিকল্পনায়

রোনালদোর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাঁকে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে অনুরোধ করেছিলেন। পরে নতুন কোচ হিসেবে হোর্হে জেসুসকে বেছে নেওয়ার বিষয়েও তাঁর মতামত নেওয়া হয়। রোনালদো জানান, তিনিও জেসুসকে উপযুক্ত মনে করেছিলেন।

এরপর জেসুসের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকে কোচ তাঁকে নিজের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। রোনালদোর দাবি, তখন তাঁকে বলা হয়েছিল প্রথম ও শেষ ম্যাচ খেলানো হবে এবং শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় ম্যাচগুলোতে নিয়মিত পরিবর্তন আনা হবে।

এমনকি নরওয়ে ও ডেনমার্ক সফরে রোনালদোর না যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে পর্তুগালের অধিনায়ক সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, বিদেশের মাঠে না গিয়ে দেশে থেকে যাওয়াটা অধিনায়ক হিসেবে তাঁর জন্য ভালো দৃষ্টান্ত হতো না। 

নরওয়ে ম্যাচে বদলে গেল পরিস্থিতি

নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দিন দুপুরে রোনালদোর কাছে জেসুসের সহকারী এসে জানান, কোচ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। রোনালদোর দাবি, তখন জেসুস তাঁকে জানান, তিনি ৩০ মিনিট খেলবেন।

সে অনুযায়ী দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ওয়ার্ম-আপও শুরু করেন রোনালদো। কিন্তু সময় গড়ালেও তাঁকে মাঠে নামানো হয়নি।

রোনালদোর ভাষায়,‘কোচ কথা রাখেননি।’এই ঘটনাই তাঁর হতাশার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ম্যাচ শেষে সমর্থকদের অভিবাদন জানাতেও যাননি তিনি। নিজের এই আচরণের জন্য অবশ্য রোনালদো দায় স্বীকার করেছেন।

পর্তুগালের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, সমর্থকদের সামনে তাঁর এমন আচরণ করা উচিত হয়নি। একই সঙ্গে জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও পরে ক্ষমা চান তিনি। 

দ্বিতীয়বারও কথা রাখা হয়নি—রোনালদোর দাবি

নরওয়ে ম্যাচের ৪৮ ঘণ্টা পর জেসুস, রোনালদো এবং আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমো কুতিনিওর মধ্যে বৈঠক হয় বলে জানিয়েছেন রোনালদো।

তাঁর দাবি, সেখানে একটি সমঝোতা হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে জেসুস বিষয়টি পরিষ্কার করবেন—রোনালদো খেলার দাবি করেননি, তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করিয়ে মাঠে না নামানো কোচের ভুল ছিল এবং ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না।

এ নিয়ে একটি আট দফার নথিও তৈরি হয়েছিল বলে জানান রোনালদো। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জেসুসের বক্তব্য সেই সমঝোতার সঙ্গে মিলেনি।

রোনালদোর ভাষায়, এটিই ছিলদ্বিতীয়বার জেসুস তাঁর সঙ্গে করা কথা রাখেননি।এরপরই আর কোনো নতুন প্রতিশ্রুতির অপেক্ষা না করে ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। 

‘আমার কাছে সত্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’

রোনালদো তাঁর দীর্ঘ বিবৃতিতে বারবার একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছেন—সত্য।

তিনি বলেছেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সত্য। সত্য যত কঠিনই হোক, তিনি চান তাঁকে সত্যিটাই বলা হোক।

তাঁর মতে, ফেডারেশনের সভাপতি ও কোচ যদি সরাসরি তাঁকে জানাতেন যে তাঁরা জাতীয় দলে তাঁকে চান না, তাহলে তিনি সেটিও মেনে নিতেন। কিন্তু তাঁকে জাতীয় দলের অংশ হিসেবে রাখার কথা বলার পর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে।

নিজের ভুলও স্বীকার করেছেন রোনালদো

কোচের সঙ্গে বিরোধের কথা বললেও ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে পুরোপুরি সঠিক দাবি করেননি রোনালদো। বরং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, অধিনায়ক হিসেবে তাঁর এভাবে দল ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি।

তাঁর ভাষায়,‘দায় একা আমার।’

পর্তুগালের ফুটবল ফেডারেশনের উচিত তাঁর কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করে শাস্তি দেওয়া—এমন কথাও বলেছেন তিনি। বরং শাস্তি কমানো উচিত নয় বলেই মনে করেন রোনালদো। কারণ তিনি শুধু একজন সাধারণ খেলোয়াড় নন, দলের অধিনায়কও।AFP

জাতীয় দল ছাড়ছেন না রোনালদো

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি এসেছে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে। রোনালদো পরিষ্কার করেছেন, এই ঘটনা জাতীয় দল থেকে তাঁর অবসরের ঘোষণা নয়।

শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি শারীরিকভাবে ফিট থাকলে এবং ক্লাবের হয়ে ভালো খেললে আবারও পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামতে প্রস্তুত।

অর্থাৎ, জেসুসের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের পরওপর্তুগালের হয়ে খেলার দরজা বন্ধ করেননি ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।বরং তাঁর ভাষায়, দেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও জেতার জন্য তিনি আগের মতোই প্রস্তুত থাকবেন। 

আর ভবিষ্যতে নিজের বিদায়ী ম্যাচ নিয়েও সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন রোনালদো—জাতীয় দলের হয়ে এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ খেলার সুযোগ হবে, তবে তাঁর কাছে এখনো মূল বিষয় প্রতিযোগিতা, বিদায় নয়।Pasted markdown

- Reuters, AFP, AJ

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three