ইউরোপের রাজা পিএসজির সামনে অস্তিত্বের পরীক্ষায় ম্যানচেস্টার সিটি
- 1
দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে আলাদা সাবিলা নূর, বিচ্ছেদের গুঞ্জন
- 2
সুইমিংপুলে পরীমনির ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ভাইরাল, কয়েক ঘণ্টায় ১৬ লাখ ভিউ
- 3
ট্রাবজোনস্পোরে সালাহর দুর্দান্ত শুরু, প্রথম সাত ম্যাচেই ১০ গোলে অবদান
- 4
নুসরাত ফতেহ আলী খানের শেষ দিনগুলো: অসুস্থ শরীরেও থামেনি সংগীতচর্চা
- 5
ইউটিউবে নতুন যাত্রা সালমান খানের, ভক্তদের শেখাবেন অভিনয়ের কৌশল

ইউরোপের রাজা পিএসজির সামনে অস্তিত্বের পরীক্ষায় ম্যানচেস্টার সিটি
ইউরোপের রাজা পিএসজির সামনে অস্তিত্বের পরীক্ষায় ম্যানচেস্টার সিটি
একদিকে মাঠে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি, অন্যদিকে মাঠের বাইরে অনিশ্চয়তার ঘনঘটা। এমন এক পরিস্থিতিতে আজ চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হচ্ছে পেপ গার্দিওলার দল।
রোববারই লিভারপুলকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সিটি। টানা ছয় ম্যাচ জিতে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষেও আছে তারা। মাঠের পারফরম্যান্সে তাই আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থাকার কথা নয়। কিন্তু মাঠের বাইরের পরিস্থিতিই এখন সিটির জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।
রায়ের পর প্রথম ইউরোপীয় পরীক্ষা
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে সিটি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটাই তাদের প্রথম ইউরোপীয় ম্যাচ। স্বাধীন কমিশনের রায়ে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগের বেশ কিছু বিষয় প্রমাণিত হয়েছে বলে উঠে এসেছে।
সিটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিণতি কী হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। পয়েন্ট কাটা, অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা কিংবা আরও কঠোর শাস্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে চলতি মৌসুমে সিটির দুর্দান্ত সাফল্যও ভবিষ্যতে কীভাবে মূল্যায়িত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
একসময় একই পথে, এখন ভিন্ন গল্প
মজার বিষয় হলো, সিটি ও পিএসজির উত্থানের গল্পে একসময় বেশ কিছু মিল ছিল। ২০১৪ সালে উয়েফার ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে নিয়ম নিয়ে দুই ক্লাবই সমস্যায় পড়েছিল এবং উয়েফার সঙ্গে নিষ্পত্তি চুক্তিতে যেতে হয়েছিল।
এরপর অবশ্য দুই ক্লাবের পথ আলাদা হয়েছে। পিএসজি ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে এবং এখন টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ফ্রান্সের ঘরোয়া ফুটবলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের আধিপত্য স্পষ্ট।
অন্যদিকে সিটির সামনে এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন।
চ্যাম্পিয়নস লিগই কি সিটির বিকল্প পথ?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আগামী মৌসুমে সিটি চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলতে পারবে কি না। প্রিমিয়ার লিগে সম্ভাব্য শাস্তির ধরন ও তার প্রভাবের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
এমন পরিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান আসর সিটির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদি ঘরোয়া লিগের পরিস্থিতি তাদের ইউরোপীয় জায়গা পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মাধ্যমে সরাসরি পরের মৌসুমের জায়গা নিশ্চিত করার সম্ভাবনাটিও আলোচনায় আসতে পারে।
তাই পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আরেকটি গ্রুপ বা লিগ-পর্বের ম্যাচ নয়; সিটির জন্য এটি নিজেদের ইউরোপীয় অবস্থান জানান দেওয়ারও বড় সুযোগ।

মাঠের লড়াইয়ের বাইরে আরেক লড়াই
সিটি ও পিএসজির গল্পে মাঠের বাইরের আরেকটি প্রেক্ষাপটও আছে। দুটি ক্লাবই মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত এবং গত এক দশকে ইউরোপের ফুটবলে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।
পিএসজির সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি সম্প্রতি সিটির নির্বাহী পর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, সিটির আপিল করার অধিকার রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তকে তিনি চূড়ান্ত হিসেবে দেখছেন না।
কিন্তু আজকের ম্যাচের ৯০ মিনিটের বাইরেও দুই ক্লাবের অবস্থান নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেটি আরও দীর্ঘ হতে পারে।
মাঠে আজ নির্ধারিত হবে কে কতটা ভালো ফুটবল খেলল। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর উত্তর পেতে হয়তো আরও অনেক সময় লাগবে।
আজ তাই পিএসজির বিপক্ষে সিটির পরীক্ষা শুধু প্রতিপক্ষকে হারানোর নয়—এটি অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার পরীক্ষা।












