‘অবিবেচনাপ্রসূত’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমবাপে
- 1
ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের তালিকা: ১৯৫৬ থেকে ২০২৬
- 2
ব্যালন ডি’অরের রাতে সানসা স্টার্ক, বার্না বয় ও আরও তারকার ঝলক
- 3
মাও সে–তুংকে নিয়ে মিমের বিতর্কে এমবাপ্পে, সম্পর্ক ছিন্ন করল চীনের দুই প্রতিষ্ঠান
- 4
ইয়ামাল-এমবাপ্পেকে পেছনে ফেলে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন
- 5
ব্যালন ডি’অর ২০২৬: কে কোন পুরস্কার জিতলেন, এক নজরে

‘অবিবেচনাপ্রসূত’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমবাপে
‘অবিবেচনাপ্রসূত’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমবাপে
চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে প্রয়াত চীনা নেতা মাও জে দংকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে। ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তার মন্তব্যটি ছিল ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ এবং এতে চীন ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা চীনা সম্প্রদায়ের মানুষ কষ্ট পেয়েছেন।
এমবাপে বলেন, “সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের একটি ছবি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম। আমার মন্তব্যটি ছিল অবিবেচনাপ্রসূত। এখন আমি বুঝতে পারছি, এটি চীন এবং বিশ্বজুড়ে চীনা সম্প্রদায়ের অনেক মানুষকে আঘাত করেছে। যারা আমার কথায় কষ্ট পেয়েছেন, তাদের সবার কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। এটি কখনোই আমার উদ্দেশ্য ছিল না। চীনা জনগণ ও তাদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”
কীভাবে শুরু হলো বিতর্ক?
সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নিজের সবচেয়ে পছন্দের মিম সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এমবাপে এমন একটি মিমের উল্লেখ করেন, যেখানে তার মুখ একজন চীনা নেতার ছবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। কথোপকথনের সময় তিনি ওই ব্যক্তিকে ‘চীনা স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভিডিওতে মাও জে দংয়ের ছবির ওপর এমবাপের মুখ বসানো একটি মিমও দেখা যায়।
তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স ও এএফপি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমবাপেকে বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তুলনা করে মিম তৈরি করা নতুন কিছু নয়। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও দলের ওপর প্রভাবকে কেন্দ্র করে ‘ডিক্টেটর’ হিসেবে তাকে উপস্থাপন করে নানা মিম দীর্ঘদিন ধরেই ছড়িয়ে আসছে।
চীনা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন
মন্তব্যটি ঘিরে প্রতিক্রিয়া দ্রুত বাণিজ্যিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্ট্রক বেভারেজ (Eastroc Beverage), দুগ্ধপণ্য নির্মাতা মেংনিউ (Mengniu) এবং মিল্কগ্রাউন্ড (Milkground) এমবাপের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সহযোগিতা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়।
কোম্পানিগুলো পৃথক বিবৃতিতে জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে—এমন বক্তব্য বা আচরণের বিরোধিতা করে এমবাপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানায়।
বিশেষ করে ইস্ট্রক তাদের বিজ্ঞাপনে এমবাপের ছবি ব্যবহার করত। বিশ্বকাপের সময় চীনের বিভিন্ন জায়গায় তাদের বিজ্ঞাপনে ফরাসি তারকার উপস্থিতিও দেখা গেছে।
চীনে লা লিগার সম্প্রচার নিয়েও তৈরি হয়েছে বিতর্ক
এ ঘটনার পর চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে লা লিগা ও এমবাপে সংশ্লিষ্ট ম্যাচ এবং অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধের খবর প্রকাশিত হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দ্য পেপার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এমবাপেকে ঘিরে সব বিজ্ঞাপনও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিক কতটা সময় ও কোন কোন সম্প্রচারে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সপ্তাহের কিছু লা লিগা ম্যাচ তখনও চীনের অনলাইন সূচিতে দেখা যাচ্ছিল।
লা লিগারও দুঃখ প্রকাশ
বিতর্কের পর লা লিগাও চীনা সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে। লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস জানান, এমবাপের মন্তব্য তার ব্যক্তিগত এবং এটি লা লিগার অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না।
তেবাস আরও বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে চীনের অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করছে লা লিগা। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ক যেন একটি ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই তাদের লক্ষ্য।
পরে তেবাস চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
চীনে কেন এত তীব্র প্রতিক্রিয়া?
মাও জে দং আধুনিক চীনের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি।
চীনে মাওকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ বা উপহাস অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ফলে তাকে নিয়ে তৈরি একটি মিমকে হাস্যরসের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করায় এমবাপের মন্তব্য চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুনও বলেন, চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা বা আচরণ স্বাভাবিকভাবেই দেশটির বিভিন্ন মহলের বিরোধিতার মুখে পড়বে।
এমবাপের জন্য বড় বাণিজ্যিক ধাক্কা
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা এমবাপে চীনের বাজারে বেশ কয়েকটি বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়া তার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ক্ষমা চেয়ে এমবাপে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। এখন চীনে তার ব্র্যান্ড ইমেজ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কতটা পুনরুদ্ধার হয়, সেটিই দেখার বিষয়।













