টি-টোয়েন্টির দাপটে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত স্টিভ ওয়াহ
- 1
বায়ার্নেই থাকতে চান হ্যারি কেইন, নতুন চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি
- 2
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়: এমবাপ্পে
- 3
ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতা শাহরুখ খান, সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি
- 4
সাঁতারে ১৭ বছরেই বিশ্ব রেকর্ড, এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লেন জাপানের শিন ওহাশি
- 5
মারায়া কেরিকে পেছনে ফেলে বিলবোর্ডে নতুন রেকর্ড এলা ল্যাংলির

টি-টোয়েন্টির দাপটে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত স্টিভ ওয়াহ
টি-টোয়েন্টির দাপটে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত স্টিভ ওয়াহ
টেস্ট ক্রিকেটের সংকট এখন আর শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এর প্রভাব পড়ছে ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও। টি-টোয়েন্টির দ্রুত জনপ্রিয়তা ও আর্থিক আকর্ষণের কারণে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটারই পাঁচ দিনের ক্রিকেটের কঠিন পরীক্ষার বদলে সংক্ষিপ্ত সংস্করণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। এই পরিবর্তনই উদ্বিগ্ন করছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহকে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ওয়াহ। একই সঙ্গে সম্প্রতি ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় নিয়েও প্রশংসা করেছেন তিনি।
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। টানা ১১ সেশন দাপট দেখিয়ে পাওয়া সেই জয়কে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন ওয়াহ। তাঁর ভাষায়, ‘এটি বিস্ময়কর। সম্ভবত এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা ছিল। বাংলাদেশকে ভালো করতে দেখা দারুণ ব্যাপার।’
তবে বাংলাদেশের জয় নিয়ে প্রশংসার চেয়েও টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি চিন্তিত ওয়াহ। তাঁর মতে, টি-টোয়েন্টিতে অর্থ ও দ্রুত ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকায় ক্রিকেটারদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন হয়ে উঠেছে।
ওয়াহ বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতেই অর্থ, আর খেলোয়াড়েরা সেখান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের জন্য সিদ্ধান্তটা কঠিন নয়—অল্প সময়ে অনেক অর্থ আয় করা অথবা টেস্ট ক্রিকেটে নিজেকে উন্মুক্ত করে দেওয়া এবং তুলনামূলক কম অর্থ আয় করা।’
তবে ক্রিকেটাররা যে সিদ্ধান্তই নিন, তাঁদের দোষ দিতে রাজি নন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। বরং টেস্ট ক্রিকেট টিকিয়ে রাখতে প্রশাসকদের আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ওয়াহর মতে, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় রাখতে হবে। যদিও এটা সহজ নয়। এটি করতে কিছুটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’
টেস্ট ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়েও দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে আসেননি ওয়াহ। প্রায় ২৭ বছর আগে তিনি বলেছিলেন, সব টেস্ট ক্রিকেটারকে সমান পারিশ্রমিক দেওয়া উচিত। এখনো সেই দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশ তিনি।
ওয়াহ বলেন, ‘আপনি যদি চান ছেলেরা টেস্ট ক্রিকেট খেলুক, তাহলে সবার জন্য একই পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করুন। শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশের হয়ে টেস্ট খেলা খেলোয়াড় যেন একই অর্থ পায়, যতটা একজন ভারতীয় বা অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড় টেস্ট ম্যাচ খেলে পায়।’
শুধু অর্থনীতি নয়, টেস্ট ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৫৭ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪১ জয় পাওয়া ওয়াহ। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মানসিকতা ও প্রয়োজনে ধৈর্য ধরে রান করার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার এবং কঠোর পরিশ্রম করে কুৎসিত রান করার শিল্প—আমার মনে হয়, এখন আর খুব বেশি দেখা যায় না।’
ওয়াহর মতে, টেস্ট ক্রিকেটে কখনো কখনো রান করার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটি মেডেন ওভার খেলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। কিন্তু টি-টোয়েন্টির দ্রুতগতির ব্যাটিংয়ের প্রভাব সেই ধৈর্যের জায়গাটিকে সংকুচিত করছে।
তাই টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচাতে শুধু অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, খেলাটির ঐতিহ্যবাহী মানসিকতাও ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন দেখছেন ওয়াহ। তাঁর কথায়, ‘কীভাবে এটি করতে হয়, সেটি আবার শিখতে হবে।’















