১১৪ অভিযোগে দোষী ম্যানসিটি, ঝুঁকিতে পুরোনো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা
- 1
বায়ার্নেই থাকতে চান হ্যারি কেইন, নতুন চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি
- 2
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়: এমবাপ্পে
- 3
মারায়া কেরিকে পেছনে ফেলে বিলবোর্ডে নতুন রেকর্ড এলা ল্যাংলির
- 4
এক মুহূর্তেই শেষ মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট
- 5
সাঁতারে ১৭ বছরেই বিশ্ব রেকর্ড, এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লেন জাপানের শিন ওহাশি

১১৪ অভিযোগে দোষী ম্যানসিটি, ঝুঁকিতে পুরোনো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা
১১৪ অভিযোগে দোষী ম্যানসিটি, ঝুঁকিতে পুরোনো প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা
ম্যানচেস্টার সিটির জন্য বড় ধরনের আইনি ধাক্কার খবর এসেছে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে করা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে একটি স্বাধীন কমিশন—এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে The Athletic। তবে এখনো সিটির শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে এখন শাস্তির মাত্রা নির্ধারণের প্রক্রিয়া বাকি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন, এমনকি প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থাও থাকতে পারে। সিটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যে অভিযোগে বিপাকে সিটি
প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সময়কালের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ক্লাবটির বিরুদ্ধে সঠিক আর্থিক তথ্য না দেওয়া, খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকসংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ না করা এবং আর্থিক স্থায়িত্বসংক্রান্ত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত-সংক্রান্ত সহযোগিতা নিয়েও আলাদা অভিযোগ ছিল।
জার্মান সাময়িকী Der Spiegel ২০১৮ সালের নভেম্বরে ম্যানচেস্টার সিটির কিছু আর্থিক নথি প্রকাশ করার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে সিটির বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগ আনে।
সিটি অবশ্য শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সর্বশেষ প্রতিক্রিয়াতেও ক্লাব জানিয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধাপ বাকি রয়েছে।
শিরোপা কি কেড়ে নেওয়া হতে পারে?
এই রায়ের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—সিটির আগের অর্জনগুলোর ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে পয়েন্ট কর্তন বা লিগ থেকে বহিষ্কারের মতো ব্যবস্থা থাকায় অতীতের মৌসুমগুলোর ফল ও শিরোপা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এখনই কোনো শিরোপা বাতিল হয়েছে বা হবেই—এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। শাস্তি কী হবে, সেটি এখনো নির্ধারিত হয়নি। ফলে সিটির আগের ট্রফিগুলোর ভাগ্যও এই মুহূর্তে অনিশ্চিত।
শেখ মনসুরের মালিকানায় ২০০৮ সালের পর থেকে ম্যানচেস্টার সিটি ইংলিশ ফুটবলে বড় সাফল্য পেয়েছে। ক্লাবটি এই সময়ে একাধিক প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ, লিগ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছে। অভিযোগের সময়সীমার মধ্যে কয়েকটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও রয়েছে।
উয়েফার আগের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে এই মামলা আলাদা
সিটির বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ মামলা উয়েফার আগের আর্থিক নিয়মনীতির মামলার থেকে আলাদা। ২০২০ সালে উয়েফা সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছিল এবং ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছিল।
পরে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS) ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। তবে তদন্তে সহযোগিতা না করার বিষয়ে সিটিকে দায়ী করা হয়েছিল এবং জরিমানাও বহাল রাখা হয়েছিল, যদিও তা কমানো হয়।
এখন কী হবে?
১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ পেলেও মামলার পুরো প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। পরবর্তী ধাপে সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণ এবং এরপর আপিলের বিষয়টি সামনে আসবে।
সিটি তাদের অবস্থান ধরে রেখে বলেছে, তারা গত আট বছর ধরে প্রক্রিয়াটিকে সম্মান করেছে এবং প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক হিসেবে আচরণ প্রত্যাশা করেছে।
অর্থাৎ, ম্যানসিটির ১১৪ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর বড় ধাক্কা হলেও পুরোনো শিরোপা কেড়ে নেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। সামনে শাস্তি ও সম্ভাব্য আপিলের প্রক্রিয়াই নির্ধারণ করবে এই মামলার চূড়ান্ত প্রভাব।













