৩৬-এ ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন, বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও কি আছেন?

৩৬-এ ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন, বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও কি আছেন?
৩৬-এ ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তন, বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও কি আছেন?
চার বছর কম সময় নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে পেসারদের জন্য সময়টা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু ভুবনেশ্বর কুমার যেন সেই ধারণাকেই ভুল প্রমাণ করছেন। ৩৬ বছর বয়সে প্রায় চার বছর পর আবারও ভারতের জাতীয় দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেয়েছেন ভুবনেশ্বর। হঠাৎ কেন তাঁকে ফেরানো হলো, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। উত্তর খুঁজলে সবচেয়ে আগে আসে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স।
ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেই প্রত্যাবর্তন
বয়স বাড়লেও ভুবনেশ্বরের বোলিংয়ের ধার কমেনি। আইপিএলে নিয়মিত পারফর্ম করে যাওয়া এই পেসার ২০২৩ সাল থেকে টুর্নামেন্টটিতে ৭২ উইকেট নিয়েছেন, যা এই সময়ে যেকোনো বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাঁর বোলিং গড় ২৬.৯৭ এবং ইকোনমি ৮.৭।
নতুন বলে সুইং করানো, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ এবং দুই দিকেই বল মুভ করানোর ক্ষমতা এখনো ভুবনেশ্বরকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। জাতীয় দলে ফেরার আলোচনায় তাঁর এই দক্ষতাই বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও ভুবনেশ্বর?
ভারতীয় দল সাধারণত বড় টুর্নামেন্টের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজায়। ভুবনেশ্বরের প্রত্যাবর্তনও সেই পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু নিউজিল্যান্ড সফর নয়, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও ভুবনেশ্বরকে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
নিজেও আরেকটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে চান এই পেসার। সম্প্রতি যতিন সাপ্রুর ইউটিউব চ্যানেলে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ভুবনেশ্বর বলেছেন, বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতির সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। নিজের শরীরকে প্রস্তুত রাখতে বাড়িতে ফিজিও ও ট্রেনারের সহায়তায় নিয়মিত অনুশীলন করছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর প্রস্তুতি শুধুই বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করে নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন।
বড় পরীক্ষা ফিটনেস
তবে ৩৬ বছর বয়সে ওয়ানডে ক্রিকেটের চাপ নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভুবনেশ্বর সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে। ফলে দীর্ঘ সময় পর তাঁকে আবার ওয়ানডের জন্য বিবেচনা করার আগে তাঁর ফিটনেস এবং দীর্ঘ সংস্করণের চাপ সামলানোর সক্ষমতা যাচাই করতে চাইবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট।
সেই দিক থেকে নিউজিল্যান্ড সফর তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ফিটনেসেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে ২০২৭ বিশ্বকাপের দরজা আরও খুলে যেতে পারে।
ভারতের হয়ে সর্বশেষ কবে খেলেছেন?
ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। টেস্টে তাঁর শেষ ম্যাচ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে, আর ওয়ানডেতে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে।
এরপর জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে নিয়মিত খেলেছেন তিনি। সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির পাশাপাশি আইপিএলেও নিজের কার্যকারিতা ধরে রেখেছেন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে টানা দুটি আইপিএল শিরোপা জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই পেসার।
তাই দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন যতটা আকস্মিক মনে হচ্ছে, পারফরম্যান্সের দিক থেকে ততটা নয়। ধারাবাহিকতা, অভিজ্ঞতা এবং নতুন বলে কার্যকর হওয়ার দক্ষতা—সব মিলিয়েই আবারও ভারতের দরজা খুলেছে ভুবনেশ্বরের জন্য।
এখন দেখার বিষয়, এই প্রত্যাবর্তন কি শুধু নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দৌড়েও নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন অভিজ্ঞ এই পেসার।















