Image

গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 18 মিনিট আগে
গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের

গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের

গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের

সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে নিজে কোনো গোল করেননি। তবু অ্যানফিল্ডের রাতটা হয়ে রইল ১৮ বছর বয়সী রিও এনগোমোহার। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিভারপুলের ৪-৩ গোলের জয়ে দুটি অ্যাসিস্ট করে আলো কেড়ে নিয়েছেন এই তরুণ উইঙ্গার। তাঁর দুর্দান্ত ড্রিবলিং, আত্মবিশ্বাস আর আক্রমণাত্মক ফুটবল মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।

লিভারপুলের হয়ে এত কম বয়সে ইউরোপীয় মঞ্চে এমন পারফরম্যান্স বিরল। ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমদ্য অ্যাথলেটিক-এর মূল্যায়ন, ক্লাবটির হয়ে বড় মঞ্চে এত কম বয়সে এর আগে কেউ এমন খেলেননি।

ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ভয়ংকর এনগোমোহা

দুই অ্যাসিস্টে বদলে দিলেন ম্যাচের চিত্র

অ্যানফিল্ডে ম্যাচের শুরুটা লিভারপুলের জন্য সহজ ছিল না। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। এমন পরিস্থিতিতে আক্রমণে নতুন গতি এনে দেন এনগোমোহা। তাঁর তৈরি করা দুটি সুযোগ থেকে গোল করে লিভারপুল ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ৪-৩ গোলে জেতে স্বাগতিকেরা।

শুধু দুটি অ্যাসিস্টই নয়, বল পায়ে এনগোমোহার সাহসী ও কার্যকর ফুটবলও ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে আটকাতে ভিয়ারিয়ালের রক্ষণকে বারবার হিমশিম খেতে হয়েছে। ডিফেন্ডারকে একের পর এক কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা দিয়ে তিনি তৈরি করেছেন বিপজ্জনক পরিস্থিতি।

ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্টের পাশাপাশি তিনটি গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং সাতটি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন এই তরুণ। প্রতিপক্ষের রক্ষণে তাঁর প্রভাব ছিল এতটাই স্পষ্ট যে, গোল করা অন্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সও অনেকটা আড়ালে পড়ে যায়।

‘রিও, রিও, রিও’ স্লোগানে মুখর অ্যানফিল্ড

৭৪ মিনিটে এনগোমোহাকে তুলে নেওয়ার সময় গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘রিও, রিও, রিও’ স্লোগান। ম্যাচ শেষে লিভারপুলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারও তাঁকে জড়িয়ে ধরে অভিনন্দন জানান। পরে স্টেডিয়ামের স্পিকারে বাজানো হয় ব্রিটিশ ব্যান্ড ডুরান ডুরানের জনপ্রিয় গান ‘রিও’।

ম্যাচসেরা হওয়া এনগোমোহা যেন এক রাতেই অ্যানফিল্ডের সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর পারফরম্যান্সের মূল আকর্ষণ ছিল শুধু পরিসংখ্যান নয়, বরং বড় ম্যাচে বল পায়ে তাঁর নির্ভীক মানসিকতা।

মাইকেল ওয়েনের রেকর্ড ভাঙলেন তরুণ উইঙ্গার

এই ম্যাচে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় লিভারপুলের হয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড গড়েছেন এনগোমোহা। ১৯৯৮ সালে মাইকেল ওয়েনের গড়া রেকর্ড ভেঙে ক্লাবটির হয়ে ইউরোপীয় টুর্নামেন্টে অ্যাসিস্ট করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি।

চ্যাম্পিয়নস লিগে কোনো ম্যাচে পাঁচ বা তার বেশি সফল ড্রিবল, প্রতিপক্ষের বক্সে অন্তত ১০ বার বল স্পর্শ এবং দুটি অ্যাসিস্ট—এই তিনটি কীর্তি একসঙ্গে গড়া সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ও এখন এনগোমোহা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ম্যাচ শেষে নিজের খেলার ধরন সম্পর্কে এনগোমোহা বলেন, ‘বল পেয়ে ওয়ান-অন-ওয়ান কিংবা টু-অন-ওয়ানের সুযোগ তৈরি হলে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমি শুধু সামনে এগিয়ে যেতে চাই এবং আরও বেশি নির্মম হতে চাই।’

নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই

এনগোমোহার এই পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে নিজের জায়গা প্রতিষ্ঠার তাড়নাও। লিভারপুলের মূল দলে বাঁ উইংয়ে সুযোগ পাওয়ার পর নতুন খেলোয়াড়ের আগমন এবং সতীর্থদের ফর্মে ফেরায় তাঁর পছন্দের পজিশনে নিয়মিত খেলার সুযোগ কঠিন হয়ে উঠেছে।

ব্র্যাডলি বারকোলা, ভিক্টর মুনোজ ও কোডি গাকপোর মতো খেলোয়াড়দের কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। তবে নিজের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহে না ভুগে এনগোমোহা দেখিয়েছেন, প্রয়োজনে ডান উইংয়েও সমান কার্যকর হতে পারেন।

এর আগে লাস্ক লিনজের বিপক্ষে ডান প্রান্তে শুরু থেকেই খেলে নজর কেড়েছিলেন। ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে ভালো খেলেন। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে পারফরম্যান্স সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি বড় উদাহরণ।

ইএসপিএনকে মৌসুমের শুরুতে নিজের মানসিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘যেকোনো পজিশন, ডান উইং বা বাঁ উইং—আমি শুধু নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, বিশেষ করে বল পায়ে থাকলে ডিফেন্ডারকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

কোচের চোখে এখনো অনেক দূর যাওয়ার বাকি

এনগোমোহার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হলেও তাঁকে নিয়ে অতিরিক্ত প্রত্যাশা তৈরি না করার কথাই বলেছেন লিভারপুল কোচ আন্দনি ইরাওলা। তাঁর মতে, মাত্র ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখনো পরিণত নন এবং উন্নতির অনেক জায়গা রয়েছে।

কোচের ভাষায়, ‘রিওর বয়স এখনো মাত্র ১৮ বছর, সে এখনো পরিণত নয়। নিজের খেলায় আরও উন্নতি করতে পারবে এবং আমি আশা করি সে এভাবেই এগিয়ে যাবে।’

কে এই রিও এনগোমোহা?

ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এনগোমোহার পারিবারিক শিকড় নাইজেরিয়া ও ফ্রান্সের অধীন গুয়াদেলুপে। একাধিক জাতীয়তার যোগসূত্র থাকলেও তিনি ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলগুলোর হয়ে খেলেছেন। তাঁর বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও এসেছে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

ক্লাব ফুটবলে তাঁর পথচলা শুরু চেলসির একাডেমিতে, মাত্র আট বছর বয়সে। ১৬তম জন্মদিনের কয়েক দিন পর চেলসি ছেড়ে লিভারপুলের একাডেমিতে যোগ দেন তিনি। এই দলবদল দুই ক্লাবের সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি করেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহের শুরুটা হয়েছিল বড় ভাইয়ের খেলা দেখতে গিয়ে। ইংল্যান্ড ফুটবলের ওয়েবসাইটে নিজের লেখা স্মৃতিচারণে এনগোমোহা জানান, তাঁর ভাই বার্কিং এফসির হয়ে খেলতেন। স্থানীয় একটি দলের হয়ে নিজের প্রথম ম্যাচে অ্যাসিস্ট করলেও বয়সে বড় ছেলেদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি।

সেই ছোট্ট ছেলেই আজ অ্যানফিল্ডে বড় ম্যাচের নায়ক। ফুটবলের প্রথম স্মৃতিতে যেমন ছিল একটি অ্যাসিস্ট, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে রাতটিও শেষ হলো তাঁর দুটি অ্যাসিস্ট দিয়ে। গোল না করেও কীভাবে একটি ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড় হয়ে ওঠা যায়, এনগোমোহা যেন সেটিই দেখালেন।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three