Image

‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অদ্ভুত স্লোগান, ঘিরে বিতর্ক

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অদ্ভুত স্লোগান, ঘিরে বিতর্ক

‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অদ্ভুত স্লোগান, ঘিরে বিতর্ক

‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’: ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে অদ্ভুত স্লোগান, ঘিরে বিতর্ক

ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে ব্যঙ্গাত্মক এক স্লোগান ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’—আরবি ও ফরাসি শব্দের মিশ্রণে তৈরি এই বাক্যটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা আন্দোলনকারীদের কাছে কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকে উপহাস করার প্রতীকে পরিণত হয়।

স্লোগানটির আক্ষরিক অর্থ স্পষ্ট নয়। তবে এর পেছনের ঘটনা ফ্রান্সের তরুণদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্পর্ক, বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ এবং আন্দোলন ঘিরে প্রজন্মগত দূরত্বের বিষয়গুলো সামনে এনেছে।

কীভাবে এল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্ন্যাপচ্যাটে শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাটরুমে প্রবেশের চেষ্টা করা এক ব্যক্তির বার্তা থেকে স্লোগানটির সূত্রপাত। বার্তায় লেখা ছিল, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব’—এমন একটি বাক্য।

বার্তাগুলোতে মামাদৌ ও আবদুল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ফ্রান্সের তরুণদের কথাবার্তায় আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্রণ দেখা গেলেও এই বার্তাগুলোর ভাষা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়।

কয়েকজন স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারী বার্তাগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপরই বাক্যটি নিয়ে শুরু হয় হাস্যরস ও বিতর্ক। তবে বার্তাগুলোর মূল উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনিদ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পুলিশের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নাকি বর্ণবাদী ধারণার প্রতিফলন?

অনেক তরুণের ধারণা, বার্তাগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের পাঠানো হতে পারে। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থী আন্দোলনে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে কেউ তরুণদের ভাষা ও পরিচয় অনুকরণ করেছিলেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের কোনো এজেন্ট এই বাক্য ব্যবহার করেছেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা শনাক্ত করতে তদন্তকারী কর্মকর্তারা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে অপরাধসংশ্লিষ্ট যোগাযোগ সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।

আন্দোলনকারীদের একাংশের কাছে এই ঘটনা শুধু অনলাইন নজরদারির বিষয় নয়। তাঁদের অভিযোগ, বার্তাগুলোতে আরব বংশোদ্ভূত তরুণদের সঙ্গে সহিংসতা ও ভাঙচুরের একটি পূর্বনির্ধারিত সম্পর্ক তৈরি করে দেখানো হয়েছে। ফলে স্লোগানটি বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

কেন তরুণদের মধ্যে এত জনপ্রিয় হলো স্লোগানটি?

শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের কাছে স্লোগানটির জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর ব্যঙ্গাত্মক চরিত্র। তাঁদের মতে, এটি এমন একজনের লেখা বলে মনে হয়, যিনি তরুণদের ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট জানেন না। সেই অস্বাভাবিকতাকেই তাঁরা হাস্যরসের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছেন।

ফ্রান্সের একটি প্রভাবশালী শিক্ষার্থী ইউনিয়নের মুখপাত্র সাবরিন খারবাচের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণেরা সাধারণত এভাবে কথা বলেন না। তাঁর মতে, স্লোগানটিকে নিজেদের করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা বোঝাতে চেয়েছেন, নজরদারি বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাঁদের সংগঠিত হওয়ার পথে বাধা হতে পারবে না।

বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদানি সাবাদির মতে, বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পূর্বধারণার প্রতিফলন। তাঁর বক্তব্য, কে ভাঙচুর করতে পারে বা কারা সহিংসতায় জড়াতে পারে, তা যেন পরিচয়ের ভিত্তিতেই ধরে নেওয়া হচ্ছে।

প্যারিসের এক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফেদ্রে কেমেনও বাক্যটিকে তরুণদের ভাষার একটি বাজে অনুকরণ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে সম্পত্তি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সবাই আরব বংশোদ্ভূত—যা বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

ফ্রান্স ছাড়িয়ে অন্য দেশেও ছড়িয়েছে স্লোগান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ ফ্রান্সের বাইরেও পরিচিতি পায়। বেলজিয়াম ও জার্মানির অনুরূপ বিক্ষোভেও স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বাক্যটি উচ্চারণ করেন। ভিডিওতে তিনি জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের জনপ্রিয় কিছু অঙ্গভঙ্গিও অনুকরণ করেন।

স্লোগানটির বিস্তার দেখিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অদ্ভুত বাক্যও কীভাবে আন্দোলনের পরিচিত প্রতীকে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে যখন সেটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তরুণদের দূরত্ব ও অবিশ্বাসের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত হয়।

ফ্রান্সে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ১৫ অক্টোবর ২০২৬, নানতেস

কী দাবিতে শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ?

ফ্রান্সের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের শুরুতে মূল দাবিগুলো ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার, আরও শিক্ষক নিয়োগ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং কঠিন সময়সূচি শিথিল করা।

অনেক বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু জায়গায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আন্দোলন ধীরে ধীরে শ্রমিক ইউনিয়ন ও অন্যান্য গোষ্ঠীর বৃহত্তর প্রতিবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। একপর্যায়ে তা দেশজুড়ে বিক্ষোভে রূপ নেয়।

পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়েও অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তদন্ত করছিল ফরাসি পর্যবেক্ষণ সংস্থা। এর মধ্যে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও ছিল।

সব মিলিয়ে, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ স্লোগানটি শুধু একটি ভাইরাল বাক্য নয়। এটি ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনে নজরদারি, পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ এবং তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ প্রকাশের একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তবে বার্তাগুলোর উৎস ও পুলিশের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এখনো নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three