Image

ডারউইনে জয় থেকে ম্যাকাইয়ে দুই দিনের টেস্ট হার

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 1 মাস আগেআপডেট: 1 সেকেন্ড আগে
ডারউইনে জয় থেকে ম্যাকাইয়ে দুই দিনের টেস্ট হার

ডারউইনে জয় থেকে ম্যাকাইয়ে দুই দিনের টেস্ট হার

ডারউইনে জয় থেকে ম্যাকাইয়ে দুই দিনের টেস্ট হার

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এক সপ্তাহের সফর যেন দুই বিপরীত গল্পের জন্ম দিল। ১৬ আগস্ট ডারউইনে চতুর্থ দিনে টেস্ট জয়, আর মাত্র ছয় দিন পর ২৩ আগস্ট ম্যাকাইয়ে দুই দিনের মধ্যেই টেস্ট হার। একই সফরে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখল বাংলাদেশ।

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলাদেশ দলের সামনে তৈরি হয়েছিল বড় এক স্বপ্ন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ঘরের মাঠে ১৩৯ বছর ধরে ধবলধোলাই না হওয়া অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলার সেই সম্ভাবনাই ম্যাকাইয়ের হারে হঠাৎ কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

ম্যাকাইয়ের টেস্টটি শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিনে। পাঁচ দিনের টেস্ট এত দ্রুত শেষ হওয়ায় হতাশা শুধু বাংলাদেশ দলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; মন খারাপ হয়েছে স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদেরও। কারণ, শহরটির মানুষের কাছে বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া টেস্ট ছিল শুধুই একটি ম্যাচ নয়—নিজেদের শহরে টেস্ট ক্রিকেটকে স্বাগত জানানোর বড় একটি উৎসব।

দুই দিনের হার, তবে অজুহাত নেই

ম্যাকাইয়ের দ্রুতগতির ও বাউন্সি উইকেটকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। তবে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথাও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারও স্বীকার করেছেন, সিরিজ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল এবং বাংলাদেশ আরও ভালো ক্রিকেট খেলতে পারত।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা ছিল ম্যাচের স্থায়িত্ব। মাত্র দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ায় দলটি যেমন বড় ধাক্কা খেয়েছে, তেমনি ম্যাচকে ঘিরে ম্যাকাইয়ের স্থানীয় আয়োজনও প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি।

ম্যাকাইয়ের উৎসবও থেমে গেল আগেভাগে

ম্যাকাই অস্ট্রেলিয়ার একটি শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা শহর। চিনিশিল্পের কারণে শহরটি পরিচিত ‘সুগার সিটি’ নামে, আবার মাছ ধরার জনপ্রিয়তার কারণে এর আরেক পরিচয় ‘ফিশিং ক্যাপিটাল’। সমুদ্র, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ল্যাম্বার্টস বিচ ও ইমিও বিচের সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

এই শহরে টেস্ট ম্যাচ আয়োজন ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। পাঁচ দিনের ক্রিকেটকে ঘিরে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়তি ব্যস্ততার প্রত্যাশা করেছিল।

কিন্তু ম্যাচ দুই দিনেই শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক দর্শক ও পর্যটকের পরিকল্পনা বদলে যায়। হোটেল ও মোটেলের বুকিং বাতিল হয়েছে, অনেকে ফ্লাইট পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশ দলের কয়েকজন ক্রিকেটারও পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্য শহরে ঘুরতে চলে গেলেও দলের অনেক খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ম্যাকাইয়ের টিম হোটেলেই থেকে যান।

তবু বাংলাদেশকে সম্মান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ানরা

মজার বিষয়, দুই দিনের টেস্ট হারের পরও ম্যাকাইয়ের মানুষ বাংলাদেশ দলকে দোষারোপ করেনি। বরং ডারউইনে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তারা প্রশংসা ও সমবেদনা জানিয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, বাংলাদেশের জন্য এমন কঠিন উইকেট তৈরি করা কতটা যুক্তিসংগত ছিল, সেটিও প্রশ্নের বিষয়। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমও সাম্প্রতিক সময়ে দুই দিনে টেস্ট শেষ হয়ে যাওয়ার মতো উইকেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে ম্যাকাইয়ের মানুষের আগ্রহের আরেকটি কারণ ছিল শহরটির ভবিষ্যৎ ক্রিকেট পর্যটন। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ফলে পর্যটকদের পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের আগমন বাড়বে—এমন প্রত্যাশা ছিল স্থানীয়দের। ম্যাচ চলাকালে হোটেলের ভাড়াও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছিল।

ডারউইনের ভালোবাসাই হয়ে থাকল বড় স্মৃতি

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের কাছে অবশ্য এই সফরের সবচেয়ে বড় স্মৃতি হয়ে থাকছে ডারউইনের জয়। কারণ শুধু সাবেক ক্রিকেটার নয়, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ মানুষও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রশংসা ও সম্মান জানিয়েছেন।

ডারউইনকে বলা হয় ‘Crocodile Capital’, আর ম্যাকাই পরিচিত ‘Fishing Capital’ নামে। এক শহরে বাংলাদেশ পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়, অন্য শহরে মাত্র দুই দিনে হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা।

সব মিলিয়ে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশ দেখল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের দুই ভিন্ন মুখ—ডারউইনে গৌরবের জয়, ম্যাকাইয়ে হতাশার হার। মাঠের ফল দুই রকম হলেও অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া মানুষের ভালোবাসা ও সম্মানই শেষ পর্যন্ত এই সফরের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three