পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভের পথে ট্রাম্পের দূতেরা, মস্কোয় কী আলোচনা হলো?
- 1
বায়ার্নেই থাকতে চান হ্যারি কেইন, নতুন চুক্তির পথে বড় অগ্রগতি
- 2
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত ফ্রান্সে খেলা সম্ভব নয়: এমবাপ্পে
- 3
মারায়া কেরিকে পেছনে ফেলে বিলবোর্ডে নতুন রেকর্ড এলা ল্যাংলির
- 4
সাঁতারে ১৭ বছরেই বিশ্ব রেকর্ড, এশিয়ান গেমসে ইতিহাস গড়লেন জাপানের শিন ওহাশি
- 5
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান মাঠেও, মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হার বাংলাদেশের

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভের পথে ট্রাম্পের দূতেরা, মস্কোয় কী আলোচনা হলো?
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর কিয়েভের পথে ট্রাম্পের দূতেরা, মস্কোয় কী আলোচনা হলো?
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে বৈঠকের পর এবার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ইউক্রেন সফরে তাঁরা দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
এটি উইটকফ ও কুশনারের কিয়েভ সফরের প্রথম ঘটনা। মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁরা ইউক্রেনেও ‘একই রকম ফলপ্রসূ’ আলোচনা করতে চান বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, শনিবার মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে উইটকফ ও কুশনার যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। রোববার তাঁদের কিয়েভে পৌঁছানোর কথা।
তবে আলোচনায় ঠিক কী ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন করে গতি পাওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মস্কোয় কী আলোচনা হলো?
রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, পুতিনের সঙ্গে উইটকফ ও কুশনারের বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। মস্কোর কেন্দ্রস্থলে পুতিনের সরকারি বাসভবনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকটিকে উশাকভ ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার পর ইউক্রেন সংকট সমাধানের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিনিময়ের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
উশাকভ বলেন, আলোচনায় সম্ভাব্য বড় রুশ-মার্কিন প্রকল্প এবং দুই দেশের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে এমন অর্থনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও কথা হয়েছে।
এ ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর অগ্রগতি এবং ইউক্রেন সংঘাতের মূল কারণগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতৈক্য হয়েছে বলেও জানান পুতিনের এই উপদেষ্টা।
তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট কোনো সমঝোতা বা চুক্তির বিষয় প্রকাশ করা হয়নি।
কিয়েভে কী হতে পারে?
মস্কোয় উইটকফ ও কুশনারের বৈঠক চলার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে’ প্রস্তুত।
এরই মধ্যে পুতিন ও জেলেনস্কি নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে তিন দিন একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এই সীমিত বিরতি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য কিছুটা সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে রাশিয়া ও ইউক্রেন সাম্প্রতিক মাসগুলোয় একে অপরের বিরুদ্ধে আকাশপথে হামলা আরও জোরদার করেছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়েছে। পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে তাদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় রুশ হামলা প্রতিহত করা কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, রুশ স্থলবাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ধীরগতিতে অগ্রসর হলেও বিপুলসংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে, যার বড় অংশই ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল।
কিয়েভে যাত্রা নিয়েও প্রশ্ন
উইটকফ ও কুশনার এর আগে বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। কিন্তু ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার আকাশসীমা কার্যত বন্ধ রয়েছে।
তাই মস্কো থেকে তাঁরা কীভাবে কিয়েভে যাবেন, তা নিয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মস্কো ও কিয়েভ—দুই রাজধানীতেই ধারাবাহিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজছে। তবে পুতিন ও জেলেনস্কির অবস্থানের পার্থক্য এবং চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে সেই পথ কতটা সহজ হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
















