Image

উত্তাপের ক্লাসিকোয় রেয়ালের প্রতিশোধ নাকি বার্সেলোনার আধিপত্য

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 3 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
উত্তাপের ক্লাসিকোয় রেয়ালের প্রতিশোধ নাকি বার্সেলোনার আধিপত্য

উত্তাপের ক্লাসিকোয় রেয়ালের প্রতিশোধ নাকি বার্সেলোনার আধিপত্য

উত্তাপের ক্লাসিকোয় রেয়ালের প্রতিশোধ নাকি বার্সেলোনার আধিপত্য

‘বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ আরও অনেক ম্যাচ আছে, কিন্তু ক্লাসিকো একটাই। এটি এলে যেন পুরো পৃথিবী থমকে যায়।’ সংবাদ সম্মেলনে কথাটা বলেছিলেন রেয়াল মাদ্রিদের কোচ জুজে মরিনিয়ো। ক্লাসিকোর মাহাত্ম্য বোঝাতে এর চেয়ে ভালো সংজ্ঞা হয়তো আর হতে পারে না।

ক্লাসিকো মানেই রুদ্ধশ্বাস উত্তাপ, তীব্র বৈরিতা ও রোমাঞ্চ। স্পেনের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রেয়াল মাদ্রিদের এই দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটি। এবার সেই উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে রেয়ালের ডাগআউটে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তন।

এই মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকো মাঠে গড়াবে রোববার। কাম্প নউয়ে লা লিগার ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।

সাম্প্রতিক দ্বৈরথে এগিয়ে বার্সা

একবিংশ শতাব্দীতে লা লিগায় রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে টানা তিন ম্যাচ জয়ের নজির বার্সেলোনার আছে মাত্র একবার। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে পেপ গুয়ার্দিওলার কোচিংয়ে সেই কীর্তি গড়েছিল তারা। এবার হান্সি ফ্লিকের দলের সামনে সেই স্মৃতি ফেরানোর সুযোগ।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে সবশেষ সাত ম্যাচে বার্সেলোনা হেরেছে মাত্র একটিতে। ঘরের মাঠে লিগের সবশেষ দুই ক্লাসিকোতেও জিতেছে তারা।

গত মে মাসের সবশেষ ক্লাসিকোয় রেয়ালকে ২–০ গোলে হারিয়েছিল বার্সেলোনা। সেই জয়েই শিরোপা নিশ্চিত করে ফ্লিকের দল।

১৩ বছর পর ক্লাসিকোয় মরিনিয়ো

রেয়ালের ডাগআউটে ১৩ বছর পর আবারও ক্লাসিকোতে নামছেন মরিনিয়ো। বার্সেলোনার বিপক্ষে মোট ২৭ ম্যাচ এবং রেয়ালের হয়ে ১৭টি ক্লাসিকোয় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

২০১০ সালে পেপ গুয়ার্দিওলার বার্সেলোনার আধিপত্যের মোকাবিলায় মরিনিয়োকে নিয়োগ দিয়েছিলেন রেয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস। রেয়ালে তাঁর প্রথম মেয়াদে ক্লাসিকো হয়ে উঠেছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ। প্রথম ১০ ক্লাসিকোর মধ্যে মাত্র একটিতে জিতলেও শেষ পাঁচটিতে অপরাজিত ছিলেন মরিনিয়ো—জিতেছিলেন তিনটিতে।

এবারও সেই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চাইবেন পর্তুগিজ কোচ।

মৌসুমে দুটি হারের পর রেয়াল ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরতির পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে তারা। এর মধ্যে সবশেষ তিন ম্যাচেই করেছে চারটি করে গোল।

তবে ক্লাসিকোর আগে এসব পরিসংখ্যানকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চান না মরিনিয়ো।

“আমরা ভালো ছন্দে আছি—ম্যাচ জিতছি, ভালো খেলছি, গোল করছি। তবে ক্লাসিকোর ক্ষেত্রে আগে কী করেছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর কোনো প্রভাব এখানে পড়ে না। ক্লাসিকো একেবারেই আলাদা। আশা করি ম্যাচটি দারুণ হবে এবং আমরাই জিতব।”

ভিনিসিউস নেই, ভরসা এমবাপ্পে

প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড দেখার পর চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ভিনিসিউস জুনিয়র। ফলে ক্লাসিকোতেও তাঁকে পাচ্ছে না রেয়াল।

চলতি মৌসুমে অবশ্য সেরা ছন্দে নেই ভিনিসিউস। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১ ম্যাচে তাঁর গোল মাত্র একটি, সঙ্গে তিনটি অ্যাসিস্ট। বরং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে তরুণ উইঙ্গার ইয়ান ডিওমান্দে নজর কেড়েছেন।

ভিনিসিউসের অনুপস্থিতিতে রেয়ালের আক্রমণের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বার্সেলোনার বিপক্ষে তাঁর রেকর্ডও দারুণ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ১০ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন ফরাসি তারকা—পিএসজির হয়ে তিন ম্যাচে চারটি এবং রেয়ালের হয়ে সাত ম্যাচে আটটি।

একবিংশ শতাব্দীতে বার্সেলোনার বিপক্ষে এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল করেছেন শুধু রেয়ালের দুই কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও করিম বেনজেমা—যথাক্রমে ২০ ও ১৬টি।

বার্সার আক্রমণে ইয়ামাল-ঝড়

হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার ফুটবল বরাবরই আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক। চলতি মৌসুমে সেই আক্রমণ যেন আরও ভয়ংকর। লা লিগার প্রথম নয় ম্যাচেই ৩৯ গোল করেছে কাতালান ক্লাবটি।

এই আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন লামিন ইয়ামাল। স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এই তরুণ তারকা। লা লিগায় নয় ম্যাচে করেছেন আট গোল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে তাঁর গোল ১০টি, সঙ্গে আরও ১০টি গোলে অবদান।

তবে চোটের কারণে দানি ওলমো, জুল কুন্দেসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারিয়েছে বার্সেলোনা। সবশেষ ম্যাচেও পিএসজির মাঠে হেরেছে তারা। তারপরও ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই ফ্লিকের।

“ক্লাসিকো সবসময়ই আলাদা। আমি মনে করি, এটা ফুটবলের সেরা ম্যাচ। পুরো বিশ্ব এই ম্যাচে চোখ রাখে। এখানে তিন পয়েন্ট জিততে পারেন, কিন্তু ব্যাপারটা এর চেয়েও বড় কিছু। ক্লাসিকোর অংশ হতে পারা অসাধারণ। আমার দলের সবাই জানে আমরা কীভাবে খেলতে চাই। আমরা প্রস্তুত এবং আত্মবিশ্বাসী।”

প্রতিশোধ নাকি আধিপত্য?

একদিকে ১৩ বছর পর ক্লাসিকোয় ফেরা মরিনিয়ো। অন্যদিকে সাম্প্রতিক দ্বৈরথে বার্সেলোনার দাপট। রেয়ালের সামনে তাই প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ, আর বার্সেলোনার লক্ষ্য নিজেদের সাম্প্রতিক আধিপত্য আরও দৃঢ় করা।

ভিনিসিউসের অনুপস্থিতিতে এমবাপ্পে-নির্ভর রেয়াল কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে? ইয়ামালের নেতৃত্বে বার্সার বিধ্বংসী আক্রমণ কি আবারও রেয়ালের রক্ষণ ভাঙতে পারবে? আর কাম্প নউ কি হয়ে উঠবে রেয়ালের জন্য প্রতিশোধের মঞ্চ, নাকি বার্সেলোনার আধিপত্যের আরেকটি অধ্যায়?

উত্তর মিলবে রোববার রাতেই।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three