Image

১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 47 মিনিট আগে
১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট

১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট

১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০২৯ থেকে নতুন যুগের পথে টেস্ট ক্রিকেট

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (WTC) দলের সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গের মন্তব্যে এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আইসিসির বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

২০১৯ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৯টি দলকে নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি দুই বছরের চক্রে দলগুলো তিনটি করে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজ খেলে। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৯-৩১ চক্র থেকে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে যুক্ত করে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১২ করা হবে।

গ্রিনবার্গ সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমার ধারণা, আগামী দুই বছরের জন্য ১২ দলের এই মডেলটিই অনুমোদিত হতে যাচ্ছে। সব টেস্ট খেলুড়ে দেশকে সুযোগ দেওয়ার জন্যই এমন ভাবনা।”

নতুন কাঠামোয় এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজকেও পয়েন্ট তালিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক ছোট সিরিজ আয়োজন করেও দলগুলো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ পাবে।

তবে দল বাড়ানোর পাশাপাশি টেস্ট ক্রিকেটের আর্থিক বাস্তবতা নিয়েও সতর্ক করেছেন গ্রিনবার্গ। তাঁর মতে, টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শুধু একটি ম্যাচ আয়োজন নয়, দীর্ঘমেয়াদে লাল বলের ক্রিকেটের অবকাঠামো তৈরি ও ধরে রাখতেও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

গ্রিনবার্গ বলেন, “টেস্ট ক্রিকেট খেলা দিন দিন ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শুধু একটা ম্যাচ আয়োজন করা নয়, লাল বলের ক্রিকেটের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রচুর বিনিয়োগ প্রয়োজন। রাতারাতি তো আর ১১ জন টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি করা সম্ভব নয়।”

এই বাড়তি ব্যয়ের কারণে ভবিষ্যতে কিছু দেশ নিজেদের হোম টেস্টের সংখ্যা কমিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারে। এমনকি বিদেশের মাটিতে তুলনামূলক বেশি টেস্ট খেলে সূচি ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য আনার কৌশলও নিতে পারে দলগুলো।

গ্রিনবার্গ আরও মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটের পাশাপাশি ওয়ানডেকেও টেকসই রাখতে হবে। ওয়ানডের আবেদন ধরে রাখতে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক সূচি তৈরি করাও আইসিসির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

টেস্ট ক্রিকেটের বাণিজ্যিক প্রসার নিয়েও পরিকল্পনা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। ভারত ও ইংল্যান্ডের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিয়মিত পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে চায় তারা। পাকিস্তানের বিপুল প্রবাসী সমর্থকদের কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশটির সঙ্গেও বড় পরিসরের টেস্ট সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার।

সব মিলিয়ে ১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু হলে টেস্ট ক্রিকেটের পরিধি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন দলগুলো সুযোগ পেলেও টেস্ট ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান খরচ, দ্বিপক্ষীয় সিরিজের আর্থিক বাস্তবতা এবং ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টির সঙ্গে ভারসাম্য রক্ষা—সবকিছুই আইসিসির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three