Image

ক্রিকেটে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ চান গাভাস্কার, কেন উঠল রেকর্ডের মান নিয়ে প্রশ্ন?

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 9 মিনিট আগে
ক্রিকেটে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ চান গাভাস্কার, কেন উঠল রেকর্ডের মান নিয়ে প্রশ্ন?

ক্রিকেটে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ চান গাভাস্কার, কেন উঠল রেকর্ডের মান নিয়ে প্রশ্ন?

ক্রিকেটে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ চান গাভাস্কার, কেন উঠল রেকর্ডের মান নিয়ে প্রশ্ন?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব রেকর্ড কি সমান মর্যাদার? প্রশ্নটি নতুন নয়। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে গড়া কিছু রেকর্ড সামনে আসায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এনেছেন ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিড-ডে-তে লেখা কলামে গাভাস্কার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রেকর্ডের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে ফুটবলের মতো ‘ডিভিশন’ ব্যবস্থা চালুর কথা বলেছেন তিনি।

কেন এমন প্রস্তাব গাভাস্কারের?

গাভাস্কারের যুক্তি, বেশির ভাগ সহযোগী দেশের ক্রিকেট এখনো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ফলে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্যাটিং বা বোলিংয়ের অসাধারণ পরিসংখ্যান কি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে অর্জিত রেকর্ডের সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত—সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

ফুটবলের উদাহরণ টেনে গাভাস্কার লিখেছেন, বিভিন্ন স্তর বা ‘ডিভিশনে’ দলগুলো খেলে এবং মৌসুম শেষে প্রমোশন ও রেলিগেশনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান বদলায়। ফলে কোনো রেকর্ড কোন স্তরে অর্জিত হয়েছে, সেটিও পরিষ্কার থাকে।

ক্রিকেটেও এমন ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এতে কোন দল কোন স্তরের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রেকর্ড করেছে, তার ভিত্তিতে পরিসংখ্যানের পার্থক্য স্পষ্ট হবে।

মঙ্গোলিয়ার ১৩ রান নিয়ে উদাহরণ

নিজের যুক্তির পক্ষে সাম্প্রতিক একটি ম্যাচের উদাহরণ দিয়েছেন গাভাস্কার। ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সাব-রিজিওনাল এশিয়া কোয়ালিফায়ার ‘এ’-তে থাইল্যান্ডের ১৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মঙ্গোলিয়া অলআউট হয় মাত্র ১৩ রানে।

তবে গাভাস্কার মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটিই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ নয়। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে নাইজেরিয়ার ম্যাচে মাত্র ৭ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও ১০ রানে অলআউট হয়েছিল মঙ্গোলিয়া।

এ ধরনের রেকর্ড সামনে এনে গাভাস্কারের প্রশ্ন—সহযোগী দেশগুলোর পারস্পরিক ম্যাচে তৈরি হওয়া রেকর্ড এবং টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে অর্জিত রেকর্ডকে কি একই মানদণ্ডে দেখা উচিত?

দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডও আলোচনায়

গাভাস্কার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডের উদাহরণও দিয়েছেন। নেপালের দীপেন্দ্র সিং আইরির ৯ বলে ফিফটির কীর্তি এখনো আলোচনায় থাকে। তিনি ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুবরাজ সিংয়ের ১২ বলে ফিফটির রেকর্ড ভেঙেছিলেন।

যুবরাজ সেই ম্যাচে স্টুয়ার্ট ব্রডের এক ওভারে ছয়টি ছক্কা মেরে ১২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছিলেন। পরে ২০২৩ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে দীপেন্দ্র ৯ বলে ফিফটি করে নতুন রেকর্ড গড়েন।

গাভাস্কারের মতে, নেপাল দ্রুত উন্নতি করছে এবং শক্তিশালী ক্রিকেট খেলছে। ফলে সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে তাদের খেলোয়াড়দের বড় পরিসংখ্যান পাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই রেকর্ডকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সামগ্রিক রেকর্ড হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেটিই তাঁর মূল প্রশ্ন।

রঞ্জি ট্রফিতেও একই ব্যবস্থা চান

শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই ধরনের ব্যবস্থা বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন গাভাস্কার। বিশেষ করে রঞ্জি ট্রফির রেকর্ড বই নতুনভাবে সাজানোর কথা বলেছেন তিনি।

তাঁর যুক্তি, তুলনামূলক দুর্বল ‘প্লেট গ্রুপ’-এর ম্যাচে অর্জিত রেকর্ড যেন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে করা কীর্তিকে আড়াল না করে।

অর্থাৎ গাভাস্কারের প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য রেকর্ড বাতিল করা নয়; বরং রেকর্ডের সঙ্গে প্রতিপক্ষ ও প্রতিযোগিতার স্তরের তথ্য যুক্ত করে তার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করা।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৭ রানে অলআউট, ২০ রানের নিচে দলীয় সংগ্রহ কিংবা এক ম্যাচে ৭-৮ উইকেট নেওয়ার মতো দুর্দান্ত বোলিং পরিসংখ্যান—এসব কীর্তি যে সহযোগী দেশগুলোর ম্যাচেই বেশি দেখা যায়, সেটিই গাভাস্কারের প্রশ্নের মূল জায়গা।

ফুটবলের মতো ক্রিকেটেও যদি প্রতিযোগিতার স্তরভিত্তিক কাঠামো চালু করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রেকর্ড দেখার সময় শুধু সংখ্যাই নয়, কোন স্তরের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই সংখ্যা এসেছে—সেটিও বিবেচনায় রাখা যাবে।

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three