ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২
ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে সহিংসতা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, বৈষম্য ও সরকারি সেবার মান নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবারের এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার দুপুরের মধ্যে ২৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ
গত মাসে প্যারিসের দরিদ্র জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলির কয়েকটি উচ্চবিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সূচনা হয়। শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ধীরে ধীরে বৈষম্য, সরকারি ব্যয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জনসেবার মান নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
প্যারিসের ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে এবং জ্বালানির দাম অনেক বেশি। শিক্ষার্থীরা আরও শিক্ষক ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশের দাবিতে আন্দোলন করলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও সহিংসতার মুখে পড়ছে।
বিক্ষোভে অনেকেই উজ্জ্বল হলুদ নিরাপত্তা জ্যাকেট পরে সড়ক অবরোধ করেন। এতে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সরকারের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরে আসে। ওই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল জ্বালানি কর ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ থেকে।

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই, রেন, তুলুজ ও অঁজে শহরেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। মুখঢাকা কিছু বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে দোকানে লুটপাটের চেষ্টা, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং সড়কের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ও হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপুবলিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। কয়েকটি গাড়ি ও একটি সংবাদপত্রের কিয়স্কেও আগুন দেওয়া হয়।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরে সিটি হলের একটি অংশে বিক্ষোভকারীরা ঢুকে পড়েন এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহরটির মেয়র জানান, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।
পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের লিওঁ শহরে একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সেখানে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।

মাখোঁর শান্ত থাকার আহ্বান
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ পর্যায়ে এসে ফ্রান্স রাজনৈতিক বিভাজন ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে।
সরকারের ঋণ কমানোর প্রচেষ্টা বিনিয়োগকারীদের পুরোপুরি আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে ফ্রান্সের সরকারি ঋণ নেওয়ার ব্যয় দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হওয়ার পর পুলিশি কৌশল নিয়ে তদন্ত চলছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।















