Image

রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা বদলে যায়? পরিসংখ্যানেই মিলছে নতুন প্রশ্নের উত্তর

৯৭ প্রতিবেদক:

প্রকাশ : 2 ঘন্টা আগেআপডেট: 1 ঘন্টা আগে
রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা বদলে যায়? পরিসংখ্যানেই মিলছে নতুন প্রশ্নের উত্তর

রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা বদলে যায়? পরিসংখ্যানেই মিলছে নতুন প্রশ্নের উত্তর

রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কতটা বদলে যায়? পরিসংখ্যানেই মিলছে নতুন প্রশ্নের উত্তর

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগাল জাতীয় দলের সাম্প্রতিক অস্থিরতা আবারও বহু পুরোনো একটি প্রশ্ন সামনে এনে দিয়েছে—রোনালদো ছাড়া পর্তুগাল কতটা কার্যকর?

প্রশ্নটি নতুন নয়। তবে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁর ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, আর রোনালদো নিজে জানিয়েছেন, কেন তিনি চলে গেছেন তা ‘যথাসময়ে’ জানাবেন।

তবে আবেগের বাইরে তাকালে পরিসংখ্যানও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে।

রোনালদো থাকলে-না থাকলে ব্যবধান কতটা?

২০১৭ সালের পরের পরিসংখ্যান সামনে রাখলে রোনালদোকে নিয়ে ও তাঁকে ছাড়া পর্তুগালের ফলাফলে খুব বড় পার্থক্য দেখা যায় না। এই সময়ে রোনালদোকে নিয়ে পর্তুগাল খেলেছে ৯৮ ম্যাচ। জয় ৬২টি, ড্র ১৮টি এবং হার ১৮টি—জয়ের হার প্রায় ৬৩ শতাংশ।

রোনালদো না থাকলে ২৮ ম্যাচে পর্তুগালের জয় ২০টি, ড্র ৮টি এবং হার মাত্র ২টি। অর্থাৎ জয়ের হার প্রায় ৭১ শতাংশ—তবে এই ম্যাচগুলোর প্রতিপক্ষ, ম্যাচের গুরুত্ব ও রোনালদোকে কেন বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল, সেসব বিষয় বিবেচনায় না নিলে শুধু এই পরিসংখ্যান দিয়ে সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

গোলের হিসাবেও পার্থক্য আছে। রোনালদোকে নিয়ে পর্তুগালের গড় গোল ২.১, আর তাঁকে ছাড়া তা ২.৭ বলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও আছে—রোনালদোকে ছাড়া ম্যাচগুলোর কিছুতে অপেক্ষাকৃত ভিন্ন প্রতিপক্ষ বা ভিন্ন পরিস্থিতি ছিল। তাই সংখ্যাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোকে পুরো গল্প হিসেবে দেখা যায় না।

রোনালদোর জায়গা নেওয়ার মতো খেলোয়াড় কি নেই?

পর্তুগালের বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, নুনো মেন্দেসদের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে দলটির আক্রমণ ও মিডফিল্ডে যথেষ্ট মানসম্পন্ন বিকল্প রয়েছে।

জর্জ জেসুস দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই জানিয়েছিলেন, অতীতের কৃতিত্ব নয়, বর্তমান পারফরম্যান্সই তাঁর সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে। রোনালদো ‘অন্য রকম’ খেলোয়াড় হলেও দল নির্বাচন বা একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে সেই পরিচয় আলাদা কোনো নিশ্চয়তা দেবে না—এমন অবস্থানই তিনি তুলে ধরেছিলেন।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগও দেখা গেছে। নরওয়ের বিপক্ষে রোনালদো পুরো ম্যাচ বেঞ্চে ছিলেন। এরপর তিনি জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান। তাঁর অনুপস্থিতিতে ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগাল ৪-২ গোলে জয় পেয়েছে। জোয়াও কানসেলো, গনসালো রামোস, ভিতিনিয়া ও জোয়াও ফেলিক্স গোল করেছেন।

কিন্তু রোনালদোর অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই

শুধু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দিয়ে রোনালদোর পর্তুগাল অধ্যায়কে বিচার করলে পুরো ছবিটা পাওয়া যাবে না।

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা পুরুষ ফুটবলার। ২০২৬ সালেও তাঁর আন্তর্জাতিক গোলের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল।

রোনালদো-যুগের আগে পর্তুগাল তিনটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোতে খেলেছিল, কিন্তু বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি। তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সময়ে দলটি একাধিক বিশ্বকাপ ও ইউরোতে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ইউরো ২০১৬ এবং নেশনস লিগের শিরোপাও জিতেছে।

অর্থাৎ পর্তুগালের ইতিহাসে রোনালদোর প্রভাব শুধু গোলসংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে।

এখন প্রশ্নটা অন্য জায়গায়

তাই প্রশ্নটি হয়তো ‘রোনালদো ভালো না পর্তুগাল ভালো’—এভাবে দেখার নয়।

বরং প্রশ্ন হলো, ৪১ বছর বয়সে রোনালদোকে দলটির জন্য কোন ভূমিকায় সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব?

কারণ একদিকে তাঁর অভিজ্ঞতা, গোল করার সামর্থ্য ও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অন্যদিকে পর্তুগালের বর্তমান প্রজন্ম এমন একটি দল তৈরি করেছে, যেখানে আক্রমণের দায়িত্ব একজন খেলোয়াড়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়।

সাম্প্রতিক ডেনমার্ক ম্যাচটি সেই দ্বিতীয় বাস্তবতাটাই সামনে এনেছে। তবে একটি ম্যাচ বা কয়েকটি পরিসংখ্যান দিয়েই রোনালদো ছাড়া পর্তুগাল চূড়ান্তভাবে কতটা ভালো বা খারাপ—সেটিও বলা যায় না।

রোনালদোর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি নিজেই বলেছেন, ক্যাম্প ছাড়ার প্রকৃত কারণ সময়মতো জানাবেন।

তাই আপাতত সবচেয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে—পর্তুগালের ভবিষ্যৎ কি রোনালদোকে কেন্দ্র করে, নাকি রোনালদোর পরের যুগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে?

Details Bottom
Details ad One
Details Two
Details Three