তদন্তের জালে রিজওয়ান, ফোন জব্দ থেকে মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা—কোথায় গিয়ে থামবে ঘটনা?
- 1
এক মুহূর্তেই শেষ মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট
- 2
মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ? সাত ম্যাচে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন
- 3
মুশতাকের বিশ্বাস, ‘ভালো ক্রিকেট খেললে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কেন নয়?’
- 4
‘বিগ বস বাংলা ৩’: বিতর্কের শীর্ষে অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত
- 5
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান মাঠেও, মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হার বাংলাদেশের

তদন্তের জালে রিজওয়ান, ফোন জব্দ থেকে মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা—কোথায় গিয়ে থামবে ঘটনা?
তদন্তের জালে রিজওয়ান, ফোন জব্দ থেকে মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা—কোথায় গিয়ে থামবে ঘটনা?
মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেটের রহস্য যেন কাটছেই না। ইংল্যান্ড সফরের শেষ দিকে শুরু হওয়া ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি—এনসিসিআইএর তদন্ত এখনো চলছে। অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সঙ্গে কথিত যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি। তবে এখন পর্যন্ত রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তের মধ্যেই একাধিক ঘটনায় আলোচনায় এসেছেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। তাঁর মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে, ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁকে খেলতে দেওয়া হয়নি এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতিও দুইবার দেওয়া হয়নি বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
হোটেলের লবিতে মধ্যরাতে ফোন জব্দ
ক্রিকবাজের প্রকাশিত আদালতের নথি অনুযায়ী, লর্ডস টেস্ট শেষ হওয়ার পর ২৭ আগস্ট রাতে হোটেলের লবিতে রিজওয়ানকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে সরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া একজন ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নেন।
রিজওয়ানের দাবি, তখন তাঁকে কোনো লিখিত নোটিশ, অভিযোগ, ওয়ারেন্ট বা ফোন জব্দের আইনি ভিত্তি দেখানো হয়নি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়া হবে বলে তাঁকে জানানো হলেও সেটি আর ফেরত পাননি। বর্তমানে ফোনটি এনসিসিআইএর কাছে এবং এর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে বলে আদালতের নথি ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এরপর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে ইংল্যান্ড থেকে দ্রুত পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরার পর দুজনকেই এনসিসিআইএ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তদন্তে রিজওয়ানের কাছে কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
এনসিসিআইএর পাঁচ পৃষ্ঠার একটি প্রশ্নমালা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে রিজওয়ানের কাছে গত ১০ বছরে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, গত পাঁচ বছরের আয়, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি, ভ্রমণ, ঋণ ও বিভিন্ন আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তদন্তের মূল বিষয় হিসেবে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলমান।
আদালতে গিয়েও স্বস্তি পাননি রিজওয়ান
এনসিসিআইএর তদন্তের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন রিজওয়ান। এ নিয়ে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্নীতি বা বেটিং-সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর লাহোর হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, তদন্তের এই পর্যায়ে এনসিসিআইএকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে যে, কোনো ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা নিজেই অপরাধের প্রমাণ বা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার অর্থ নয়। এনসিসিআইএকে আইন মেনে তদন্ত করতে এবং রিজওয়ানকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
সাবেক পিসিবি আইনপ্রধানের ব্যাখ্যা
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক আইনপ্রধান তাফাজ্জুল রিজভি ক্রিকবাজকে বলেছেন, এ মুহূর্তে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে মূলত একটি নোটিশ রয়েছে এবং তাঁকে প্রশ্নমালার উত্তর দিতে বলা হয়েছে।
রিজভির ব্যাখ্যায়, শুধু নোটিশ দেওয়া বা কোনো তদন্ত সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা মানেই কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়া নয়। তাঁর মতে, তদন্তের এই পর্যায়ে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে যাওয়া বা তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।
রিজভি আরও বলেন, পাকিস্তানে অনলাইন বেটিং ও জুয়া অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের আইনি ক্ষমতা রয়েছে।
আইসিসির কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছেন রিজওয়ান
আদালতে যাওয়ার পর বিষয়টি এবার আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট পর্যন্ত নিয়ে গেছেন রিজওয়ান। তাঁর প্রশ্ন, কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সন্দেহ তৈরি হলে পিসিবি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কী ধরনের অ্যান্টি-করাপশন প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা।
বিশেষ করে তাঁর ফোন জব্দ, সেটি ইংল্যান্ড থেকে পাকিস্তানে নেওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়ে আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড অবগত ছিল কি না, সেটিও জানতে চেয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে এখনো আইসিসির জবাব পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।
মাঠের বাইরেও আটকে রিজওয়ান
তদন্ত চলাকালে রিজওয়ানের ক্রিকেটীয় কার্যক্রমও সীমিত হয়েছে। ইংল্যান্ড সফর থেকে ফেরা বেশির ভাগ ক্রিকেটার পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও রিজওয়ানকে প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে এসেছে। তাঁকে নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের সহ-অধিনায়ক করা হলেও খেলতে পারেননি।
এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার চেষ্টাও আটকে গেছে। জিও নিউজের সূত্র অনুযায়ী, রিজওয়ান দুইবার পিসিবির কাছে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চেয়েছিলেন; দুইবারই তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
ইমাম-উল-হকও একই তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন এবং তাঁর ফোনও জব্দ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদন রয়েছে। তবে রিজওয়ানের মতো তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান নেননি।
সব মিলিয়ে রিজওয়ানকে ঘিরে এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি হলো ‘তদন্ত’। আদালতও বলেছে, নোটিশ নিজে কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়। ফলে এনসিসিআইএর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রিজওয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এখন অপেক্ষা, তদন্ত শেষে পাকিস্তানের এই তারকা ক্রিকেটারকে ঘিরে আসল তথ্য কী সামনে আসে।














