‘সিটির অর্জন কেউ কেড়ে নিতে পারবে না’, সাবেক ক্লাবের পাশে রদ্রি
- 1
এক মুহূর্তেই শেষ মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট
- 2
মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদে ‘মধুচন্দ্রিমা’ শেষ? সাত ম্যাচে উঠে এসেছে একাধিক প্রশ্ন
- 3
মুশতাকের বিশ্বাস, ‘ভালো ক্রিকেট খেললে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কেন নয়?’
- 4
‘বিগ বস বাংলা ৩’: বিতর্কের শীর্ষে অভিনেত্রী নন্দিনী দত্ত
- 5
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান মাঠেও, মালয়েশিয়ার কাছে ৩–০ গোলে হার বাংলাদেশের

‘সিটির অর্জন কেউ কেড়ে নিতে পারবে না’, সাবেক ক্লাবের পাশে রদ্রি
‘সিটির অর্জন কেউ কেড়ে নিতে পারবে না’, সাবেক ক্লাবের পাশে রদ্রি
ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির সম্পর্কের গল্পটা ছয় বছরেরও বেশি সময়ের। ২০১৮ সালে ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পর সাত মৌসুমে জিতেছেন ১৩টি শিরোপা। এরপর গত আগস্টে বার্সেলোনায় পাড়ি জমালেও সাবেক ক্লাবের প্রতি টানটা যে এখনো অটুট, সেটিই জানিয়ে দিলেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতে স্বাধীন প্যানেলের রায় ক্লাবটির বিপক্ষে গেছে—এমন খবর প্রকাশের পর রদ্রি সিটির পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি; ম্যানচেস্টার সিটি জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাকি আছে এবং তারা অভিযোগ ও রায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।
‘আমি ক্লাবটির নির্দোষতায় বিশ্বাস করি’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্পেনের নেশনস লিগ ম্যাচের আগে ওয়েম্বলিতে সংবাদ সম্মেলনে রদ্রিকে সিটির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি ২০২০ সালের ঘটনাটিও মনে করিয়ে দেন।
রদ্রি বলেন, “২০২০ সালেও আমাদের প্রায় একই রকম ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। অভিযোগ ভিন্ন হলেও আইনি প্রক্রিয়াটি ছিল একই। সেবারও প্রথম ধাপে আমাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা ক্লাবের ওপর এবং তাদের নির্দোষ থাকার দাবির ওপর আস্থা রেখেছিলাম। শেষ পর্যন্ত আমরা বেকসুর খালাস পেয়েছিলাম। তাই আমি বিচারব্যবস্থার ওপর এবং ক্লাবের নির্দোষ হওয়ার বিষয়ে পূর্ণ আস্থা রাখছি।”
২০২০ সালের ঘটনাটি ছিল উয়েফার দেওয়া দুই বছরের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা। সিটি সেই শাস্তির বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে আপিল করে সফল হয়েছিল।
‘আমরা মাঠে যা অর্জন করেছি, তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না’
সিটির হয়ে চারবার প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ ও উয়েফা সুপার কাপসহ একাধিক শিরোপা জিতেছেন রদ্রি। ২০২৪ সালে সিটির হয়ে দুর্দান্ত মৌসুমের পর ব্যালন ডি’অরও জেতেন তিনি।
এখন সেই সময়ের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই রদ্রির কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে কি না।
তবে রদ্রির বক্তব্য, খেলোয়াড়দের দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ভিন্ন। তাঁর ভাষায়, “শুধু পেপ (গার্দিওলা) কিংবা ফুটবলাররাই নন, মালিকপক্ষ থেকে প্রতিদিন সেখানে যাঁরা কাজ করেছেন—পুরো কাঠামোর অবদান রয়েছে এতে। আমরা মাঠে যা অর্জন করেছি, তা কেউ আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। এমন কিছু অর্থ দিয়ে কেনা যায় না; এসব অর্জিত হয়েছে সাধনায়, পারস্পরিক সংহতি আর প্রতিদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের মানসিকতায়।”
তিনি আরও বলেন, “জোর দিয়ে বলতে পারি, প্রতিটি সাফল্যই আমরা নিজেদের যোগ্যতায় অর্জন করেছি। ইংলিশ ফুটবলের অন্যতম সেরা একটি যুগের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত।”
সিটির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগ ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২০০৯-১০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনে। অভিযোগগুলোর মধ্যে লিগকে আর্থিক তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ, লাভ-ক্ষতির নিয়ম এবং খেলোয়াড় ও কোচদের পারিশ্রমিকসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের বিষয়ও ছিল।
সিটির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর এখন স্বাধীন প্যানেলের রায় প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ক্লাবটি রায় মেনে নেওয়ার অবস্থানে নেই। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রিমিয়ার লিগের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি এবং তারা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার ওপর জোর দিচ্ছে।
রদ্রিও সেই অবস্থানেই আস্থা রাখছেন। তাঁর ভাষায়, “ক্লাবের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে তারা কোনো ভুল করেননি এবং আমরাও সেটিই বিশ্বাস করি। যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা দোষী প্রমাণিত হচ্ছেন, আমরা ক্লাবের পক্ষেই থাকব। আমি তো সেখানে ছিলাম, আমি জানি তারা কীভাবে কাজ করেন।”
আজ ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি রদ্রির স্পেন
সিটির হয়ে রদ্রির অধ্যায় শেষ হলেও স্পেনের জার্সিতে তাঁর সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। নেশনস লিগে আজ রাতে ওয়েম্বলিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন।
ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা। সিটি-সংক্রান্ত বিতর্কের মাঝেই রদ্রির জন্য তাই ওয়েম্বলির ম্যাচটি হবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আবারও মাঠের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ।












