ফ্রান্সের ডিসকাউন্ট জায়ান্ট GiFi সংকটে, মূল ক্রেতাদের হারানোর পেছনে কী?
- 1
৬১৮ কোটি টাকার ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে র্যাম্পে কাইলি জেনার, বিতর্কে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট
- 2
২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?
- 3
‘আমরাই চ্যাম্পিয়ন, হয়তো এখন বিশ্বের সেরা দলও’—বার্সাকে হারিয়ে হাকিমি
- 4
মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আরব আমিরাত
- 5
গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের

ফ্রান্সের ডিসকাউন্ট জায়ান্ট GiFi সংকটে, মূল ক্রেতাদের হারানোর পেছনে কী?
ফ্রান্সের ডিসকাউন্ট জায়ান্ট GiFi সংকটে, মূল ক্রেতাদের হারানোর পেছনে কী?
ফ্রান্সের জনপ্রিয় ডিসকাউন্ট খুচরা বিক্রেতা GiFi বড় ধরনের ব্যবসায়িক সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কম দামে ঘর সাজানোর সামগ্রী, রান্নাঘরের পণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজের ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া, ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তন এবং প্রযুক্তিগত সমস্যাসহ একাধিক কারণ প্রতিষ্ঠানটির দুরবস্থার পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কম দামের পরিচিতি থেকে সরে যাওয়ার মাশুল
১৯৮১ সালে ফিলিপ জিনেস্তের প্রতিষ্ঠিত GiFi ফ্রান্সে সাশ্রয়ী দামের ঘরোয়া পণ্য বিক্রির জন্য পরিচিতি অর্জন করে। প্রতিষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল কম দামে নানা ধরনের পণ্য পাওয়া। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পণ্যের মান ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কৌশল ঐতিহ্যবাহী ক্রেতাদের একাংশকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কম দামের পণ্যের জন্য যাঁরা নিয়মিত GiFi-তে কেনাকাটা করতেন, তাঁদের কাছে দামই ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা। ফলে প্রতিষ্ঠানের কৌশলে পরিবর্তন এলে ক্রেতাদের প্রত্যাশা ও প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়।
প্রতিযোগিতার চাপে GiFi
ফ্রান্সের ডিসকাউন্ট বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে Action-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান কম দামে পণ্য বিক্রি করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে GiFi-কে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনার সমস্যাও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসাকে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কম্পিউটার ব্যবস্থার পরিবর্তন বা তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো স্থানান্তরের প্রক্রিয়া প্রত্যাশামতো না চলায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর্থিক সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
GiFi-এর সংকট এখন শুধু ক্রেতা হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ঋণ পরিশোধে অক্ষমতার পরিস্থিতির কথা কর্মীদের জানিয়েছে এবং ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আদালতের তত্ত্বাবধানে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার আবেদন করার পরিকল্পনা করেছে। ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০০টি দোকান এবং আনুমানিক ৬ হাজার কর্মী রয়েছে।
তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ মানেই সব দোকান অবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। বরং এ ধরনের ব্যবস্থার লক্ষ্য হতে পারে ব্যবসা চালু রেখে আর্থিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করা।
GiFi-এর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরোনো ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে স্থিতিশীল করা। একসময় কম দামের পণ্যের জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান আবারও ক্রেতাদের কাছে আগের আকর্ষণ ফিরে পাবে কি না, তা নির্ভর করবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।













