শিশুদের টুথপেস্টসহ ৪৩ লাখের বেশি টিউব প্রত্যাহার, কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
- 1
৬১৮ কোটি টাকার ‘ফ্যান্টাসি ব্রা’ পরে র্যাম্পে কাইলি জেনার, বিতর্কে ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট
- 2
২১ বছরেই ইতিহাস, ব্যাটে ফিফটি–বলে ৬ উইকেট: কে এই আরাফাত মিনহাস?
- 3
‘আমরাই চ্যাম্পিয়ন, হয়তো এখন বিশ্বের সেরা দলও’—বার্সাকে হারিয়ে হাকিমি
- 4
মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ, উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ আরব আমিরাত
- 5
গোল না করেও অ্যানফিল্ডের নায়ক ১৮ বছরের এনগোমোহা, ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে দুই অ্যাসিস্টে মাতালেন লিভারপুল সমর্থকদের

শিশুদের টুথপেস্টসহ ৪৩ লাখের বেশি টিউব প্রত্যাহার, কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
শিশুদের টুথপেস্টসহ ৪৩ লাখের বেশি টিউব প্রত্যাহার, কী কারণে এই সিদ্ধান্ত?
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডসহ ৪৩ লাখের বেশি টিউব টুথপেস্ট বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নিয়মে বিচ্যুতির কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। তবে ঠিক কী ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে, তা কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে উৎপাদিত পণ্যগুলোর প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রিতম ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড গত ১০ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করে। পরে ১৯ অক্টোবর এফডিএ প্রত্যাহারটিকে ‘ক্লাস টু’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতরণ করা মোট ৪৩ লাখের বেশি টিউব এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে।
কোন কোন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট প্রত্যাহার করা হয়েছে?
প্রত্যাহার করা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশুদের জন্য তৈরি ব্রাশ বাডিজ (Brush Buddies) ব্র্যান্ডের বিভিন্ন টুথপেস্ট। এসব পণ্যের কিছুতে বার্বি, হট হুইলস, মাই লিটল পনি ও ক্রেয়োলার মতো পরিচিত চরিত্রের নকশা রয়েছে।
এ ছাড়া রয়েছে বিভিন্ন স্বাদের টুথপেস্ট—যেমন বাবল গাম, তরমুজ, স্ট্রবেরি, ভ্যানিলা আইসক্রিম, মিন্ট চকলেট চিপ, কুকিজ অ্যান্ড ক্রিম এবং চকলেট আইসক্রিম।
শুধু শিশুদের পণ্যই নয়, প্রত্যাহারের তালিকায় রয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি কিছু টুথপেস্টও। এর মধ্যে ইভো (evo) ব্র্যান্ডের দাঁত সাদা করা ও সংবেদনশীল দাঁতের জন্য তৈরি পণ্য এবং এআরইউ (ARU) ব্র্যান্ডের মাড়ির যত্ন ও ক্যাভিটি প্রতিরোধের টুথপেস্ট রয়েছে।
কেন প্রত্যাহার করা হলো?
এফডিএর নথিতে প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে ‘কারেন্ট গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ বা সঠিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া-সংক্রান্ত নিয়মে বিচ্যুতির কথা বলা হয়েছে। এসব নিয়মের উদ্দেশ্য হলো ওষুধ হিসেবে নিয়ন্ত্রিত পণ্যের পরিচয়, গুণমান, বিশুদ্ধতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ার মান নিশ্চিত করা।
তবে ঠিক কোন উৎপাদনগত বা মান নিয়ন্ত্রণের সমস্যার কারণে এই টুথপেস্টগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ফলে নির্দিষ্ট কোনো উপাদান দূষিত ছিল বা টুথপেস্ট ব্যবহারে নিশ্চিতভাবে ক্ষতি হয়েছে—এমন দাবি করার মতো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে নেই।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা?
এফডিএ প্রত্যাহারটিকে ‘ক্লাস টু’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। সংস্থাটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, এ ধরনের পণ্য ব্যবহারে সাময়িক বা চিকিৎসার মাধ্যমে সেরে ওঠা সম্ভব এমন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর স্বাস্থ্যক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম বলে বিবেচিত হয়।
এই শ্রেণিবিন্যাসের অর্থ এই নয় যে পণ্যগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ, কিংবা প্রত্যেক ব্যবহারকারীর ক্ষতি হবে। বরং এটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়ন।
ক্রেতাদের কী করা উচিত?
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ক্রেতাদের কেনা টুথপেস্টের ব্র্যান্ড, পণ্যের নাম, প্যাকেটের আকার, ব্যাচ বা লট নম্বর এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ প্রত্যাহারের সরকারি তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। তালিকাভুক্ত পণ্য থাকলে সেটি ব্যবহার বন্ধ করে বিক্রেতা বা প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত দেওয়া বা অর্থ ফেরতের বিষয়ে জানতে হবে।
প্রত্যাহার করা পণ্যগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পড়তে পারে। তাই শুধু মেয়াদ দেখে পণ্য নিরাপদ কি না, তা নির্ধারণ করা যাবে না।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে এই প্রত্যাহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অসুস্থতা বা আঘাতের নিশ্চিত খবর উল্লেখ করা হয়নি। তবে উৎপাদনগত সমস্যার বিস্তারিত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্য শনাক্ত করা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।













